সুখ পাখি
“মেঘ দেখে তোরা করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য্য হাঁসে”। এটা কেমন প্রভাব প্রবচন, কেমন কথা, কোন বাস্তবতা এর মাঝে লুকিয়ে আছে তা কখনো জানতাম না এবং জানার জন্য তেমন আগ্রহও কেন জানি তৈরী হয়নি। জীবনের গতি প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার পথে হঠাত কেন জানি বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় জীবনের গতিপথ, অন্ধকার ঘনিয়ে আসে চতুর্দিকে, বিলুপ্ত হতে থাকে মনের মাধুরে গেথে থাকা স্বপ্নীল স্বপ্ন গুলো, কাছের মানুষ গুলোও ক্রমান্বয়ে পর হতে থাকে। ঠিক জীবনের এই চরম দুর্দিনে যখন পিঠ প্রায় দেওয়ালের মাঝে ঠেকে যায় তখনি এই প্রবাবটা স্মিতির মাঝে ভেসে উঠে; আর এরই মাঝে আমি নিজে নিজে জোগাড় করতে থাকি আমার সাহস, মনোবল এবং আত্মবিশ্বাস। সাথে সাথে চালিয়ে যাই আমার সংগ্রাম। আর দুহাত দুদিকে ফেলে ফেতে চেয়েছিলাম কাউকে সঙ্গী হিসেবে নিতে, আমার পথিক হতে, পিছু ফিরে বারবার কারো অগ্রযাত্রা কামনা করেও কাউকে পাইনি; কিন্তু তবুও তাতে কিছু যায় আসে নি। আমি বেয়ে যেতে লাগলাম আমার জীবন তরী আর গাইতে লাগলাম এই গানটি,
যদি তোর ডাক শুনে কেউ নাই আসে তবে একলা চল রে, একলা চলো, একলা চলো, একলা……………………….
ক্লান্ত শান্ত মনে তরী বেয়ে মেঘ পাড়ি দিয়ে যেতে যেতে অবশেষে সূর্য্য নামের সেই সাত রাজার ধন, মানিক রতনটার সন্ধান মেলে যায়। কিন্তু তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য হারাতে হয় কয়েকটা মুল্যবান মূহুর্ত। কিন্তু কিছুই করার নেই কিছু পেতে হলে অবশ্যই কিছু হারাতে হবে।
যখনই জীবনের মাঝে শত দুর্দিন হারিয়ে সুখ নামের সেই সোনার হরিণটাকে আমার জীবন নামের এই সুন্দর খাঁচাটার মাঝে বন্দি করে ফেলি তখনই ভাবনা হয় কতদিন সুখ নামক এই সূর্য্যটাকে কষ্ট নামক এই ভয়ংকর মেঘ থেকে কতটুকু আলাদা করে রাখতে পারব। বাকিটুকু ভবিষ্যতে দেখার বিষয়।

No comments:
Post a Comment