প্রেম, নাকি জ্বালা!
সেদিন রং নাম্বারে কোমল সুরেলা এক মেয়ের সাথে কথা বলে খুব ভালই লেগে উঠল। তার লাইন কেটে দেওয়ার সাথে সাথে মনটা হঠাত যেন খারাপ হয়ে যায়। মুহুর্তের মাঝে তাকে ফোন; কিন্তু সে লাইন কেটে সাথে সাথে মোবাইলের সুইচটা অফ করায় মাথাটা পুরো হ্যাং হয়ে যায়। সাথে সাথে তার নাম্বারে বার বার ডায়াল করতে শুরু করি। কিন্তু কোন ফয়দা হয় না দেখে তাকে চমতকার একটা এসএমএস পাঠিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে তার ফোন পেয়ে ঘুম ভাংগায় বুঝতে পারি এসএমএসটাই কাজে লেগেছে। ক্রমান্বয়ে পরিচয়। সর্বশেষ বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে……..। সেই থেকেই মনটা আউলা যাউলা হয়ে যায়। নিজেকে কেন জানি অন্য সবার চেয়ে একটু আলাদা মনে হয়। পড়ার টেবিলে বসা মাত্রই মনটা চটপট শুরু হয়ে যায়। খাওয়ার টেবিলে যাওয়ার কথা শুনার পর মাথায় রক্ত চেপে যায়; আর গুন গুন করে মন থেকে কাকের কন্ঠে গুনগুনানি আসে। নিজেকে বার বার আয়নার সামনে আনতে ইচ্ছে হয়। ঘুম চোখ থেকে কোথায় যে হারিয়ে গেল তাকে খুজে পাওয়াতো এখন রীতিমতো সোনার হরিনে রুপান্তরিত হতে বসেছে। নিদ্রাহীন কাটতে শুরু হয় রাতগুলো। সবসময় তার সাথে কথা বলার জন্য মনটা উদাস হয়ে পড়ে। বন্ধুদের সাথে এখন আর ভার্সিটির বটতলায় আড্ডা দিতে মোটেও ভাল লাগে না, ক্লাসে গেলেও ঠিকমত মন টিকিয়ে রাখতে পারি না। আত্মীয় স্বজন কাউকে আগের মত ফোন করতে ইচ্ছে করে না, এমনকি বন্ধু বান্ধবরাও ফোন করলে তাদের সাথে এক দুই মিনিটের বেশি কথা বলতে বিরক্তি বোধ হয়। শুধু মাত্র তার সাথে কথা বলা শুরু করলে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় তারপর ও মনে হয় কথার কোন শেষ হয়না। কিছু কিছু সময় রাত গড়িয়ে সকাল হয়ে যায় তারপরও কথা। কোথায় ঘুম! কোথায় খাওয়া! কোথায় লেখাপড়া! হায় এই আমার জীবনের কোন পরিবর্তন, কোন পরিনতি! একি প্রেম! নাকি জ্বালা! না অন্য কিছু!

No comments:
Post a Comment