স্বপ্ন নয়তো!
মাহবুব আলম
মুরাদ
রাত প্রায়
১০
টা
৩০
মিনিট।
সারা
দিন
কর্মব্যস্ততা
শেষে
বাসায়
ফিরে
ক্লান্তি
দূর
করতে
নেটে
বসে
শুভ
তার
দেওয়া
পোস্টগুলো
দেখছে।
হঠাত
কম্পন
দিয়ে
মোবাইলটা
বেঝে
উঠে।
বিরক্তিভাবে
রিসিভ
করতে
গিয়ে
ভাবির
ফোন
দেখে
অত্যন্ত
আগ্রহ
নিয়ে
তা
রিসিভ
করতেই
ভাবি
বলে
উঠে,
তার
ভাইয়ার
অবস্থা
নাকি
আগের
চেয়ে
একটু
অবনতি
হয়েছে।
একথা
শুনতে
না
শুনতেই
শুভ
লাফ
দিয়ে
উঠে
যে
অবস্থায়
ছিল
সে
অবস্থায়
দ্রুত
ভার্সিটির
ব্যাগটা
পিঠে
নিয়ে
বেরিয়ে
পড়ে।
রাত
ক্রমে
গভীর
হতে
থাকে;
রাস্তা-ঘাট
ও
অনেকটা
ফাকা।
অনেকক্ষন রাস্তার
পাশে
অসহায়ের
মত
দাঁড়িয়েও
কোন
যানবাহনের
ব্যবস্থা
করতে
না
পেরে
বেশ
হতাস
মনে
সে
হাঁটতে
শুরু
করে।
কিছু
সময়
হাটার
পর
পিছ
থেকে
ক্রিং
ক্রিং
শব্দে
একটা
রিক্সা
এসে
দাঁড়ায়
তার
পাশে।
ড্রাইবারটা
অনেকটা
বয়স্ক,
প্রায়
তার
বাবার
বয়সি।
শুভকে
উদ্দেশ্য
করেই
বলে
কি
বাবা
কোথায়
যাবেন।
তার
দিকে
তাকিয়ে
শুভের
বেশ
মায়া
হয়।
তাই
কোন
দামাদামি
না
করে
রিক্সায়
চেপে
বসে
বলে
চলেন
চাচা
মগবাজার।
ড্রাইবার চাচার
সাথে
বেশ
গল্প
গুজব
করতে
গিয়ে
সে
তার
ভাইয়ার
অসুস্থতার
কথা
প্রায়
ভুলে
যায়।
কথার
মাঝে
বেশ
হাসি
উতলে
তুলে
তারা
প্রায়
রাজারবাগ
পুলিশ
লাইনের
পাশে
পৌঁছে।
হঠাত
কোথা
থেকে
একটা
ছেলে
এসে
তাদের
রিক্সার
সামনে
দাঁড়িয়ে
তাদের
চলার
পথ
প্রায়
থামিয়ে
দেয়।
ছেলেটা
শুভের
মুখের
দিকে
তাকিয়ে
কেঁদো
কেঁদো
স্বরে
বলে
উঠে
ভাইয়া
রাতের
খাবারটা
এখনো
খেতে
পারেনি।
বেশ
খুদা
পেয়েছে।
একটু
কিছু
খেতে
দিবেন।
তার
কান্নাভরা
কন্ঠে
শুভের
বেশ
মায়া
হয়।
নিজের
অজান্তেই
চোখের
পাশ
বেয়ে
একফোঁটা
জ্বল
বেরিয়ে
মাটিতে
পড়ে
তার।
পকেটে হাত
দিয়ে
মানিব্যাগটা
বের
করে
টাকা
বের
করতে
না
করতেই
কয়েকজন
লোক
তার
রিক্সা
ঘিরে
ফেলে।
তারা
সকলেই
প্রায়
শুভের
সমবয়সি।
সে
মুখ
খুলে
কিছু
বলতে
না
বলতেই
চোখের
ফলকে
তাদের
একজন
একটা
চাকু
তার
গলার
নিচে
বসিয়ে
বলে,
ঐ
ব্যাটা
চেঁচা-চেঁচি
না
করে
তোমার
সাথে
যে
পাঁচ
লাখ
টাকা
আছে
সেগুলো
দিয়ে
দে
না
হলে
একদম
গলা
কেটে
ড্রেনে
ফেলে
দেবো।
আরেকটা
বলে
উঠে
ওস্তাদ
দিবো
নাকি
পেটে
বসিয়ে
মালটা।
শুভ
চোখ
বড়
করে
তাদের
পাশ
থেকে
কাউকে
ডাকার
চেষ্টা
চালায়।
তখনই
সে
দেখতে
পায়
তিন-চার
জন
পুলিশ
তাদের
পাশে
অন্য
একটি
ম্যাক্সিকে
থামিয়ে
ড্রাইবারের
কাছে
থেকে
মাল
আদায়
করছে।
শুভ
তাদের
ঢাকলেও
তারা
শুনেও
না
শুনার
ভ্যান
করে
সেখান
থেকে
আড়াল
হয়ে
যায়।
সাথে
সাথে
তার
মনে
পড়ে
যায়
বাবার
মুখে
শুনা
১৯৭১
সালের
রাজারবাগ
পুলিশ
লাইনের
পুলিশদের
আত্মত্যাগের
কথা।
যারা
দেশকে
শত্রুমুক্ত
করার
জন্য
আর
আমাদের
সমাজের
শান্তি
প্রতিষ্ঠা
করার
জন্য
কত
না
কষ্ট
করেছে।
আবার
অনেকে
জীবন
পর্যন্ত
উতসর্গ
করেছে।
আর
অথচ
আজ
সেই
স্থানে
সেই
পুলিশদের
সামনে
সে
তার
জীবন
হারাতে
বসেছে।
হায়রে
দেশ!
হায়রে
পুলিশ!
কোথায়
তাদের
দায়িত্ব!
কোথায়
দেশ
প্রেম!
একথা
মনে
পরতে
না
পরতেই
তার
শরীরটা শিওরে
উঠে;
মনটা
বেশ
খারাপ
হয়ে
যায়।
সে
অসহায়ের
মত
তাদের
সামনে
দাঁড়িয়ে
আত্মসমর্পন
করে
কান্না
কান্না
স্বরে
বলে
উঠে
ভাই
আমি
ছাত্র
মানুষ।
আমি
এত
টাকা
পাবো
কই!
বড়
ভাইয়া
খুবই
অসুস্থ,
হাসপাতালে
আছে।
রাতে
তার
সেবা
করার
জন্য
আমি
সেখানে
যাচ্ছি।
একথা
বলে
সে
তার
মানিব্যাগ
থেকে
ভার্সিটির
আইডি
কার্ড
দেখিয়ে
পুনরায়
বলে
ভাই
বিশ্বাস
না
হয়
আমার
আইডি
কার্ড
দেখুন।
একথা
শুনতে
না
শুনতে
তাদের
মাঝ
থেকে
একজন
চেঁচিয়ে
বলে,
“বস!
শালা
মিচা
কথা
কইছে।
একটা
মেরে
দিলেই
শালা
সত্য
কথা
বলব।”
একথা
শুনে
তাদের
নেতা
যে
শুভকে
চাকু
ঠেকিয়েছে
সে
বলে
চুপ
কর
বেটা।
আমরা
আমাদের
অপারেশন
ভুল
করেছি।
ছেলেটায়
কথায়
বোঝা
যায়
আসলে
সে
আমাদের
সাথে
সত্য
কথা
বলছে।
একথা
শুনে
শুভের
মনের
স্বস্থি
ফিরে
পায়।
কিছুক্ষন চুপ
থেকে
দলনেতা
শুভকে
উদ্দেশ্য
করে
বলে
ভাই
আমি
অত্যন্ত
লজ্জিত।
আমাদের
ক্ষমা
করে
দিবেন।
আসলে
আপনি
ছাত্র
জানলে
কখনো
আপনাকে
ডিষ্টার্ব
করতাম
না।
তাছাড়া
আপনার
যে
বিপদ!
দোয়া
করি
আপনার
ভাইয়া
যেন
দ্রুত
সুস্থ
হয়ে
উঠে।
আসলে
নিজে
তো
কখনো
পড়ালেখা
করার
সুযোগ
পাই
নি
তাই
আজ
বুঝতে
পারি
পড়া
লেখার
কি
মূল্য!
আর
কখনো
ভাইয়া
বলে
কাউকে
আপন
করে
পাইনি;
তাই
বুঝতে
পারি
ভাইয়ার
কি
মূল্য!
একথা
বলেই
তার
চোখ
জ্বলে
টল
টল
করতে
থাকে।
শুভ
অবাক
দৃষ্টিতে
তার
পানে
তাকিয়ে
থাকে।
কিছু সময়
চোখ
টলতে
টলতে
সে
শুভকে
হাত
বাড়িয়ে
বলে
আমি
নীরব।
এই
এলাকার
যত
রংবাজ,
মাস্তান,
পুলিশ
সব
আমার
পরিচিত।
যদি
কখনো
কোন
সমস্যায়
পড়েন
তাহলে
প্লিজ
আমাকে
ফোন
দিবেন
অথবা
বলবেন
আমি
নীরবের
বন্ধু।
একথা
শুনে
শুভের
মন
বেশ
মুখরিত
হয়ে
যায়।
সে
মনে
মনে
ভাবতে
শুরু
করে
সন্ত্রাসের
মনেও
তাহলে
প্রেম
আছে!
শুভ সাথে
সাথে
অধীর
আগ্রহ
নিয়ে
তার
ফোন
নাম্বারটা
সংগ্রহ
করে।
তখন
তার
সাথের
লোকগুলো
অবাক
দৃষ্টিতে
শুভের
দিকে
তাকায়
এবং
মুখ
দিয়ে
কিছু
বলার
চেষ্টা
করে।
লোকটি
পুনঃরায়
শুভের
নিকট
ক্ষমা
চেয়ে
তাকে
রিক্সায়
তুলে
ড্রাইবারকে
তার
পাওনা
মিটিয়ে
বিদায়
জানায়।
এ ঘটনা
দেখে
শুভ
তার
নিজের
চোখকে
বিশ্বাস
করাতে
পারল
না।
সে
অনেকক্ষন
অন্য
মনস্ক
হয়ে
ভাবা
ভাবি
শুরু
করে
দেয়।
কিন্তু
কোন
ফলাফল
মেলাতে
পারে
না।
হঠাত
অকপটে
ড্রাইবারকে
বলে
উঠে
চাচা
আমি
স্বপ্নে
দেখলাম
নাতো!
এটা
কি
হল!
এটা
কিভাবে
সম্ভব!
.jpg)
No comments:
Post a Comment