Friday, January 18, 2013

স্বপ্নময়ী তুমি


স্বপ্নময়ী তুমি

ছোট একটা দেহ যার নাম মানবদেহ যেখানে রয়েছে রক্ত, মাংস, হাড়, শিরা উপশিরা ও ধমনীর সমন্বয়। প্রতিটি ক্ষুদ্র অনু ও পরমানুর রয়েছে বেশ গুরুত্ব এবং তাদের প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের রয়েছে বেশ মিল। এই সব কিছুর সমন্বয়ে গড়ে তোলা আরেকটি বস্তু রয়েছে যার নাম মন বা আত্মা। এই মনের মাঝে রয়েছে চাওয়া-পাওয়া, লোভ-লালসা, কামনা-বাসনার যোগসূত্র যার কোন সীমানা নেই।

আমিও রক্তে মাংসে গড়া এক মানবজাতি যার মন বলে একটা বস্তু আছে যা আমায় শুধু স্বপ্ন দেখায়, অন্যকে ভালবাসতে উৎসাহিত করে, ব্যস্ত রাখে সকল সুখময় মুহুর্তগুলোর মাঝে আর দূরে রাখে গ্লানিময় মুহুর্তগুলো থেকে।
 

সাময়িক আমি নিজের মাঝে খুঁজে পাই একজনের প্রতি আমার মনটা অধিক আগ্রহ দেখায় তাইতো আমি তার মায়াবি ঐ মুখটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাই। ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ি তার দৈনিক সকল কর্মকান্ডের প্রতি। মাঝে মাঝে গভীর আগ্রহে পর্যবেক্ষন করে যাই তার সকল দুষ্টুমিগুলো যা অতি নিষ্পাপ নিতান্তই শিশুতুল্য। তার প্রতিটি মুহুর্তই আমায় করে তোলে বেশ আবেগ প্রবন। স্বপ্ন দেখায় সুদূর ভবিষ্যতের; হাতছানি দেয় সোনালী সকালের।
 

তার সাথে ছোট বেলার মত বউ বউ খেলতে বেশ ইচ্ছে করে। কখনো কল্পনায় তাকে লাল বেনারশি শাড়ীর আঁচলে দেখে বিভোর হয়ে পড়ি, আবার কখনো নিজেকে বর সাজিয়ে তার পাশে দেখতে বেশ ইচ্ছে করে।
 
তার মুখের মৃদু হাঁসি আমায় বেশ আনন্দ দেয়; যদিও সে অন্য দশ বিশটা মেয়ের মত এত মায়াবী না তবুও তার মেধা, দুষ্টুমি ভাব, অল্পতেই রেগে গিয়ে মুখ লাল করে গম্ভীর হয়ে বসে থাকা আবার একটু কটু কথাতেই কান্নায় চোখ ফুলিয়ে ফেলা ইত্যাদি আমায় প্রতিটি মুহুর্তে বেশ আকৃষ্ট করে।
 

কবি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেনের কোন বৈশিষ্ট্য যদিও তার চরিত্রের মাঝে বিন্দু মাত্র নেই তবুও তার মাঝে আমি উজ্জ্বল এক সোনালী সকাল খুঁজে পাই। পাখির নীড়ের সুখ তার মাঝে খুঁজে না পেলেও আবহমান নদীর কলকল ধ্বনি তার জীবনের গতিপথে বেশে আসে। শীতের সকালে ঘাসের উপর মিষ্টি রোদের আলোয় কুয়াশা যেমন হীরার মত জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে ঠিক তেমনি তার কোমল ঠোঁটে আমার দৃষ্টি পড়া মাত্রই সেগুলো আমার দিকে তাকিয়ে সানন্দে জ্বলতে থাকে।

তার অপলক দৃষ্টি ক্রমে আমায় আনমনা করে লুকিয়ে ফেলে কল্পনার গভীরের চেয়ে আরো গভীরে। ভুলিয়ে দেয় বাস্তবতাকে। জাগিয়ে তোলে মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা ভালবাসায় ভরপুর মনটাকে। আর আমায় বার বার পিড়া দিয়ে বলে, যা তাকে জানিয়ে দে তোর মনের সব চাওয়া পাওয়া গুলো। তাকে পেয়ে মুক্ত করে নে তোর সকল ব্যথা বেদনাগুলো। চিনিয়ে নিয়ে আয় এই বর্বর পৃথিবীর জাল থেকে আর তুলে নে তোর বুকের মাঝে।
 

বাস্তবতার প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাত আমায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে কল্পনার সেই সুখময় মুহুর্তগুলো থেকে। গভীর আগ্রহে চেয়ে থাকি সেই মুহুর্তগুলোর প্রতি যেথায় তার হাঁসি, অনুরাগ, বিরাগ, কোমল হাতের একটু ছোঁয়া আমায় করে তুলবে অধিক বেশি আবেগ প্রবন।

নিজের অনুভূতিগুলো শুধু প্রকাশ করে যাই; কিন্তু কখনো তার চাওয়া পাওয়া, পছন্দ অপছন্দ নিয়ে একটুও ভাবিনি। বুঝার চেষ্টা করিনি তার মনের অবস্থা।
 
এত কামনা বাসনার পরেও শত বার শত চেষ্টা চালিয়ে তার সামনে মুখ ফুটিয়ে বীর পুরুষের মত দাঁড়িয়ে বলার সাহস আজও আমার জন্মেনি, “প্রিয়তমা, আমি তোমাকে ভালবাসি তুমি কি আমায়--------? ”

No comments:

Post a Comment