আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এক সন্ধ্যা
এ বছরের বানিজ্য মেলায় যাওয়ার ইচ্ছা বেশ
কয়েক দিন যাবত হলেও সময়ের সিংক্ষিপ্ততা ও ব্যস্ততার জন্য বেশ কয়েক বার যাবো যাবো
বললেও যাওয়া হলো না। অবশেষে গত কাল কোন প্ল্যান ছাড়াই রওযানা হই। বাসা থেকে বের
হয়ে বন্ধু সফিক ও রাজিবকে ফোন দেওয়া মাত্রই তারা রাজি হয়ে যায়। আমি তো তাদের পেয়ে
মহা খুশি। সফিক আসার সময় তার বন্ধু ফেরদাউসকে নিয়ে আসে। তাকে দেখে আমার মন আরো
উল্লোসিত হয়ে উঠে। কারন আমাদের সবার চেয়ে সেই বেশি পরিমান Extrovert। সবাই একত্রে যাত্রা করলাম মতিঝিল থেকে
বিকল্প বাসে ছড়ে। শুক্রবার হওয়াতে রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ছিল। যাইহোক বেশ অল্প সময়েই
মেলার গেইটে পৌঁছে যাই।
গতকাল ই ছিল যে বাণিজ্য মেলার শেষ
শুক্রবার তা গেটে গিয়েই বুঝতে পারলাম। বেশ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ
করে ভেতরে প্রবেশ করলাম। ক্রমান্বয়ে একের পর এক স্ট্রলগুলো ঘুরতে লাগলাম আর দেখতে
লাগলাম দর্শনার্থীদের ভিড়।
বেশ কয়েকটা বানিজ্যিক Concept দেখে আমি মুগ্ধ হলাম।
বিশেষ করে, আকিজ বেবারেজের স্টলের সামনে
দাঁড়িয়ে যখন দেখতে পেলাম বিশাল কয়েকটি স্প্রীডের কেন দাঁড়িয়ে আছে ষ্টলের সামনে আর
তাদের আঘাতে চূর্ন বিচূর্ন হয়ে আছে দেওয়ালের বেশ কয়েকটি অংশ।
এ দৃশ্য সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছে। আমার
ও আগ্রহের কোন কমতি নেই তাদের Concept সম্পর্কে।
হঠাত একজন বৃদ্ব মহিলা ষ্টলটির সামনের অংশ
দেখেই চিৎকার করতে শুরু করে দ্রুত সাংবাদিককে খবর দাও এই ভবনটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। এ
কথা বলতে বলতেই সে দিল এক দৌঁড়। আমি তার এই আনুভূতি দেখে মনে মনে হাসতে লাগলাম আর
বলতে লাগলাম যাক কোম্পানিদের Concept টা অন্তত কিছু হলেও স্বার্থক; তারপর আবার ঘুরতে লাগলাম। অনেকক্ষন ঘুরার
পর বেশ ক্লান্ত হয়ে গেলাম। পরে বসার একটা সিট ফাঁকা পেয়ে সবাই বসে পড়লাম। বসতে না
বসতেই রাজিব আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, বন্ধু মেলাতো দেখলাম আমাদের জন্য না; এখানে
তো সব মেয়েদের জন্য। অনেক খোঁজাখোঁজি করেও ছেলে দের সামগ্রী সামান্য কয়েকটি ষ্টলে
পেলাম কিন্তু মেয়েদের পন্যের ষ্টলের তো অভাবই নাই।
তার কথার প্রতি উত্তরে ফেরদাউস বলে উঠে
আরে দেখিস না বাংলাদেশে শুধু মেয়েরাই সকল পরীক্ষা দেয় আর ভাল রেজাল্ট অর্জন করে আর
ছেলেরা তো কিছুই করে না। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে কেবল মেয়েদেরই ছবি সবগুলো
মিডিয়া প্রকাশ করে। এমনকি প্রতিদিন পত্রিকার পড়ালেখার পাতায় শুধু মেয়েদের ছবি
দেওয়া হয়। এই নিয়ে বন্ধুরা বেশ কিছুক্ষন মজা করলাম।
পরে উঠে আবার পর্যবেক্ষন শুরু করলাম। ড্যানিশের
ষ্টলের সামনে যাওয়ার পর সেই ষ্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখে বেশ আগ্রহ হল সেটির উপর।
ভেতরে প্রবেশ করতেই দেশি সবার দৃষ্টি দরিমনের উপর। সবাই অবাক হয়ে দেখছে দরিমনকে,
কেউ সুন্দর করে ছবি তুলছে, আবার কেউ বাচ্ছাকে তার কোলে তুলে দিয়ে বেশ মজা পাচ্ছে।
আমি ও বেশ আগ্রহ নিয়ে তার সামনে এসে
দাঁড়াই আর যাচাই করতে শুরু করি এটা কি কার্টুন না কি সত্যিকারের মানুষ। পরে
ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে বেশ কষ্ট পেলাম যে একজন মানুষকে কার্টুন বানিয়ে অন্য
মানুষদের আনন্দ দিয়ে কোম্পানিরা তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিনিময়ে
ঐ লোকটা কি পাচ্ছে? সে তো তার নিজস্ব Personality বিক্রি করে দিচ্ছে। আসলে এটাই বর্তমান
সমাজের প্রতিচ্ছবি।
এই দৃশ্য দেখে আর ঘুরতে ভাল লাগেনি পরে সকলে বেশ মন খারাপ করে বেরিয়ে
আসি। বেরিয়ে আসার সময় বুঝতে পারলাম মেলায় আসার মজা। প্রচন্ড মানুষের ভিড়। তখন গভীর
লক্ষ্য করে বুঝতে পারলাম, যাদের মেয়েদের প্রতি বেশ আকর্ষন এই ভিড়ে তার দেখে
মেয়েদের পিছু নেয় আর সুযোগ বুঝে কিছুক্ষন পর পর ধাক্কা দিয়ে তার গায়ের উপর উপছে
পড়ে। কিন্তু মেয়েরা লজ্জায় কিছু না বলে বেশ মুখ বুজে সেই ধাক্কাগুলো সহ্য করেই
যাচ্ছে। শত কষ্টের মাঝেও নিজেকে সামলে নিয়ে ভীড় অতিক্রম করে বেরিয়ে পড়ি। বাহিরের
অবস্থাতো আরো করুন। মেলার গেট থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত বিশাল জ্যাম। পরে কি আর করা বন্ধুরা
সবাই মিলে গল্প করতে করতে হেঁটে আসি ফার্মগেট। তারপর বাসে উঠে ফিরে আসি গন্তবে।

No comments:
Post a Comment